
গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালীগঞ্জে বায়েজিদ হাসান শিবলীকে ইয়াবাসহ আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে নানা অভিযোগ ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে শিবলীকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করা হলেও স্থানীয় কয়েকটি সূত্রে তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা সেবন ও বিপণনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, শিবলীর বাবা আক্তার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে অবস্থান করছেন। স্থানীয়ভাবে দাবি করা হচ্ছে, বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থের একটি অংশ তার ছেলে মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করতেন। তবে অর্থের উৎস, ব্যবহার এবং কথিত ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে আক্তার হোসেনের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
সম্প্রতি জামালপুর ইউনিয়নের দালান বাজার এলাকায় শিবলীকে ইয়াবাসহ আটক করার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়, তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন স্ক্রিনশট নিয়েও আলোচনা চলছে। এসব স্ক্রিনশটে আক্তার হোসেনের নামে এমন বক্তব্য দেখা যায়, যেখানে তিনি দাবি করেছেন, তার ছেলে আগে ইয়াবা সেবন করলেও বর্তমানে সে ইয়াবা সেবন করে না। তবে স্ক্রিনশটগুলোর সত্যতা, প্রেক্ষাপট ও সম্পূর্ণ কথোপকথন যাচাই না করে সেগুলোকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।


অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ ও অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমকর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। বিষয়টি সত্য হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও তথ্য অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে উদ্বেগের বিষয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কালীগঞ্জে মাদক কারবারের একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। শিবলীকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ সেই বৃহত্তর মাদক নেটওয়ার্কের সঙ্গে কোনোভাবে সম্পৃক্ত কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
তবে পুরো ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে পুলিশি নথি, জব্দ তালিকা, মামলার এজাহার, আদালতের নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে আক্তার হোসেন ও বায়েজিদ হাসান শিবলীর বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ দেওয়াও সাংবাদিকতার নীতিগত দায়িত্ব।
প্রতিবেদনের অবস্থান:
এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত মাদক ব্যবসা, অর্থের জোগান, বিপণনে সম্পৃক্ততা ও গণমাধ্যমকর্মীদের হুমকির বিষয়গুলো অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না।






































