back to top
Home আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষতার অর্থ কী ! সুইজারল্যান্ডে নিরপেক্ষতা আরও কঠোর করার প্রস্তাবে গণভোট

নিরপেক্ষতার অর্থ কী ! সুইজারল্যান্ডে নিরপেক্ষতা আরও কঠোর করার প্রস্তাবে গণভোট

সুইজারল্যান্ডে নিরপেক্ষতা আরও কঠোর করার প্রস্তাবে গণভোট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সুইজারল্যান্ডের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষতার নীতি আরও কঠোরভাবে সংবিধানে সংযুক্ত করার প্রস্তাব নিয়ে আজ, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দেশটিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ‘সুইস নিরপেক্ষতা সুরক্ষা’ উদ্যোগের আওতায় প্রস্তাবটি ভোটারদের সামনে এসেছে। নিরপেক্ষতার অর্থ কী

প্রস্তাবটি পাস হলে সংবিধানে সুইজারল্যান্ডের নিরপেক্ষতাকে ‘চিরস্থায়ী ও সশস্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করা হবে। একই সঙ্গে দেশটি কোনো সামরিক বা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে পারবে না এবং সরাসরি সামরিক হামলার শিকার হওয়া বা হামলা আসন্ন হওয়ার মতো পরিস্থিতি ছাড়া এ ধরনের জোটের সঙ্গে সহযোগিতাও সীমিত হবে।

 

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, তৃতীয় কোনো দেশের মধ্যে চলমান সশস্ত্র সংঘাতে সুইজারল্যান্ড অংশ নেবে না এবং যুদ্ধরত দেশের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করতে পারবে না। তবে জাতিসংঘের সিদ্ধান্তে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর পথ বন্ধে প্রয়োজনীয় কিছু ব্যবস্থা এর আওতার বাইরে থাকবে।

 

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিতর্ক

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সুইজারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশিরভাগ নিষেধাজ্ঞা গ্রহণ করায় দেশটির ঐতিহ্যগত নিরপেক্ষতার প্রয়োগ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়। প্রস্তাবটির সমর্থকেরা মনে করেন, নিরপেক্ষতাকে সংবিধানে আরও স্পষ্ট ও বাধ্যতামূলকভাবে সংজ্ঞায়িত করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, সুইস সরকার ও পার্লামেন্ট উদ্যোগটির বিরোধিতা করেছে। সরকারের মতে, অতিরিক্ত কঠোর সাংবিধানিক বিধান ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে দেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সীমিত করতে পারে।

সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইগনাজিও ক্যাসিসের বক্তব্য অনুযায়ী, নিরপেক্ষতা মানে আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকা নয়। তার মতে, নিরপেক্ষতা প্রয়োগে কিছুটা নমনীয়তার প্রয়োজন রয়েছে।

 

জরিপে ‘না’ ভোটের প্রবণতা

গণভোটের আগে প্রকাশিত বিভিন্ন জনমত জরিপে প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে ভোটের প্রবণতা দেখা গেছে। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় এসআরজি জরিপে ৬৩ শতাংশ ভোটার উদ্যোগটির বিরোধিতা এবং ৩৪ শতাংশ সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন। জরিপটি ২ থেকে ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে করা হয় এবং এতে ১২,৯১৬ জন ভোটারের মতামত বিশ্লেষণ করা হয়েছিল।

আরেকটি জরিপেও প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে সংখ্যাগরিষ্ঠতার চিত্র উঠে আসে। তবে এগুলো ভোটের ফল নয়; এগুলো ভোটের আগে মানুষের মতামতের পরিমাপ মাত্র।

প্রস্তাবটি মূলত ‘প্রো সুইজারল্যান্ড’সহ সার্বভৌমত্বপন্থী গোষ্ঠীগুলোর উদ্যোগে সামনে আসে। দেশটির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল সুইস পিপলস পার্টি (এসভিপি) প্রস্তাবটির সমর্থনে রয়েছে। অন্যদিকে সরকার ও পার্লামেন্টসহ অধিকাংশ প্রধান রাজনৈতিক দল এর বিরোধিতা করছে।

 

একই দিনে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও ভোট

নিরপেক্ষতা নিয়ে গণভোটের পাশাপাশি রোববার সুইস ভোটাররা খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও আরেকটি জাতীয় উদ্যোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন। এই প্রস্তাবে টেকসই দেশীয় খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, উদ্ভিদভিত্তিক খাদ্যের প্রসার এবং পরিষ্কার পানির নিশ্চয়তার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের সংবিধানে নিরপেক্ষতা ১৮৪৮ সাল থেকে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনেও দেশটির নিরপেক্ষতা স্বীকৃত। এবারের গণভোটের মূল প্রশ্ন নিরপেক্ষতা থাকবে কি না—তা নয়; বরং ভবিষ্যতে এই নিরপেক্ষতা কতটা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে, সেটিই ভোটারদের সামনে রাখা হয়েছে।